Al اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَلِكِ الْوَهَّابِ الرَّحِيْمِ التَّوَّابِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ بِلَا شَكٍّ وَلَا ارْتِيَابٍ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ وَمَنْ تَبِعَهُمْ بِإِحْسَانٍ إِلَى يَوْمِ الْمَآبِ وَسَلَّمَ تَسْلِيْماً كَثِيْراً، أَمَّا بَعْدُ:
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! এ পৃথিবীতে মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইবাদত করা। মানুষকে এ উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই কেউ যদি কোনো ভালো কাজ করে তবে সে তা নিজের উপকারের জন্যই করে। তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আদায়ের অংশ হিসেবেই করে। পক্ষান্তরে কেউ যদি গুনাহের কাজ করে তবে সে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বে অবহেলার কারণেই করে। তার নিজের ক্ষতি হিসেবেই তা করে। মানুষের গুনাহ যতোই বাড়ুক তা আল্লাহর শানে আদৌ কোনো ক্ষতির কারণ হতে পারে না। অনুরূপভাবে নেক আমলও আল্লাহর কোনো উপকারে আসে না।
প্রিয় ভাইয়েরা! গুনাহ হলো ঘৃণ্য আবর্জনা যা সর্বাবস্থায় বর্জন করা আবশ্যক। গুনাহের এ আবর্জনা আমরা যদিও চোখে দেখি না, তার গন্ধ অনুভব করি না; কিন্তু মানুষের অন্তরে এর প্রভাব লক্ষণীয়। মানুষ পাপের পর পাপ করতে থাকে এবং এক সময় তার অন্তর ঢেকে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন : كَلاَّ بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَّا كَانُواْ يَكْسِبُونَ ‘ কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তাই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে’ (সূরা আল-মুতাফফিফীন:১৪)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ، فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ، صُقِلَ قَلْبُهُ، فَإِنْ زَادَ زَادَتْ، فَذَلِكَ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ ‘ মুমিন বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যদি সে তাওবা করে নেয়, বিরত হয়ে যায়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তবে তার অন্তর মসৃণ হয়ে যায়। আর যদি সে আরো করে তবে দাগ আরো বেড়ে যায়, এটাই হলো অন্তর আচ্ছাদিত হয়ে যাওয়া যার উল্লেখ আল্লাহ তাঁর কিতাবে করেছেন’(ইবনে মাজাহ, হাসান)।
এসব গুনাহ, যারপর বান্দা তাওবা করে না, ইস্তিগফার করে না, বান্দার অন্তরে স্তুপীকৃত হতে থাকে এমনকি এক পর্যায়ে কঠিন আবরণের রূপ পরিগ্রহ করে, যা অন্তরকে একেবারে ঢেকে ফেলে।
প্রিয় ভাইয়েরা! কাপড়ের ওপর যদি একের পর এক ময়লা জমতে থাকে আর তা ধোয়া না হয় তাহলে কী অবস্থা হবে আপনারাই বলুন! অন্তরের অবস্থা ঠিক একই রকম। যদি গুনাহ জমতে থাকে আর তাওবা করা না হয়, ইস্তিগফার করা না হয়, তাহলে না-ধোয়া কাপড়ের মতোই তা ময়লায় ভারাক্রান্ত ও আচ্ছাদিত হয়ে যাবে।
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমরা তো রাতদিন পাপ করেই যাচ্ছি। পাপ করার পর হয়তো অনেক দিন গুজরে যায়, অথচ তাওবা করা হয় না, ইস্তিগফারের জন্য আল্লাহর কাছে হাত দরায করা হয় না। গুনাহ থেকে মাফ চাওয়া হয় না। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। নিশ্চয় পবিত্রতা ও প্রকৃত পরিচ্ছন্নতা হলো অন্তরের পবিত্রতা, অনন্তরের পরিচ্ছন্নতা। কাপড়ের পরিচ্ছন্নতা দিয়ে কী হবে, যদি পাপের বোঝায় ভারাক্রান্ত থাকে হৃদয়; পাপের ময়লায় আচ্ছাদিত থাকে অন্তরাত্মা?
এমন তো অনেকেই আছে যাদের কাপড় অনেক পরিষ্কার; কিন্তু তাদের অন্তর আবর্জনায় পরিপূর্ণ। পাপের আধিক্যে দুর্গন্ধময়। তাদের অন্তর গুনাহের ময়লায় মলিন। তারা একের পর এক পাপ করে চলে, অন্যায় করে চলে; কিন্তু তাওবা থেকে গাফেল থাকে, ইস্তিগফার থেকে গাফেল থাকে। মানুষ যদি তার প্রকৃত চেহারা উম্মোচিত করে, তাহলে তার নিজের কাছে ও মানুষের কাছে তার কি আদৌ কোনো মূল্য থাকবে? আর কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তাআলার কাছে তার কোনো মূল্য থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! সকল মানুষই পাপ করে, গুনাহ করে। তবে পার্থক্য হলো কেউ কেউ পাপ করার সাথে সাথে তাওবা করে নেয়। নিজের অন্তরকে পবিত্র করে নেয়। লজ্জিত হয়ে, অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, কৃত পাপের জন্য ক্ষমা চায়। পক্ষান্তনে অনেকেই এমন আছে যাদের অন্তরে পাপ স্তুপীকৃত হতে থাকে অথচ সে তাওবা করে নিজকে পবিত্র করে না। আল্লাহর কাছে ঐকান্তিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিজের অন্তরকে মসৃণ করে না।
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফ চাওয়ার দরজা সদা উন্মুক্ত। ইস্তিগফারের দরজা সদা উন্মুক্ত, যাতে আমরা তাওবা করে অন্তরের আবর্জনা থেকে নিজদেরকে পবিত্র করে নিতে পারি। আল্লাহ তো আমাদেরকে তাওবা করতে আহ্বান করছেন। কৃত গুনাহের ব্যাপারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলছেন, যাতে আমাদের অন্তর ভারমুক্ত হয়। গুনাহের বোঝা মুক্ত হয়। অন্তরের প্রশান্তি ফিরে আসে। হৃদয়ের শান্তভাব ফিরে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন : قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعاً إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ . ‘ বল, ‘হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আয-যুমার:৫৩)।
প্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে দু’টি নাম الْغَفُوْرُ التَّوَّابُপরম ক্ষমশীল, তাওবা কবুলকারী। মহামহিম আল্লাহ তাআলার এ মহান নাম দু’টি তাঁর ক্ষমা ও তাওবা কবুল করার অর্থ জ্ঞাপক। পবিত্র মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং তাদেও ত্র“টি-বিচ্যুতি মাফ করে দেন। মূসা আলাইহিস সালাম অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তাওবা করেছিলেন আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন : قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ ‘ সে বলল, ‘হে আমার রব, নিশ্চয় আমি আমার নফ্সের প্রতি যুলম করেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন’। অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সূরা আল-কাসাস:১৬)।
আদম আলাইহিস সালামের তাওবা কবুল সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন :
ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَى وَعَصَى آَدَمُ رَبَّهُ فَغَوَى ‘এবং আদম তার রবের হুকুম অমান্য করল; ফলে সে বিভ্রান্ত হল। এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন’ (সূরা তাহা:১২১-১২২)।
আল্লাহ তাআলা বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং গুনাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ ‘আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কর, তিনি তা জানেন’ (সূরা আশ-শূরা:২৫)।
তাওবা বান্দাকে পরিচ্ছন্ন করে সফলতার পথে নিয়ে যায়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً