اَلْحَمْدُ لِلَّهِ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ بِرَحْمَتِهِ، وَعَمَّ كُلَّ حَيٍّ بِنِعْمَتِهِ، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ خَضَعَتِ الْخَلَائِقُ لِعَظَمَتِهِ، سُبْحَانَهُ يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلائِكَةُ مِنْ خِيْفَتِهِ، أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهُ عَلَى تَوَابِعِ آلَائِهِ وَجَلَائِلِ مِنَّتِهِ، وَأَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ سَيَّدَنَا وَنَبِيَّنَا مُحَمَّداً عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهُ، أَمَّا بَعْدُ :

প্রিয় মুসলিম ভাই বন্ধুগণ! আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সুন্দর নামসমূহের মধ্যে দুটো নাম হল- আর রহমান আর রহীম। এর অর্থ হল, পরম দয়াময় অতি দয়ালু।

আর রাহমানবা পরম দয়াময় বলতে ব্যাপক দয়া করুণাকে বুঝানো হয়। যে দয়া-করুণায় ইহজগতে কাফির, মুশরিক মুমিন সকলেই এবং পরজগতে কেবল মুমিনরা অন্তর্ভুক্ত। পক্ষান্তরে আর রহীমবলতে এমন দয়া করুণাকে বুঝায়, যা শুধু পরকালে মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।  অধিকাংশ আলেম-উলামার মত এটাই।

আমরা আল্লাহ তাআলার রহমত দ্বারা পরিবেষ্টিত। আল্লাহর অগণিত রহমত করুণা আমাদের গোটা অস্তিত্বকে ছেয়ে আছে। আর আল্লাহর রহমতকে প্রতিরোধ করার কেউ নেই। সাথে সাথে আল্লাহর রহমত রুদ্ধ হয়ে গেলে তা বিমুক্ত করারও কেউ নেই। একমাত্র আল্লাহ তাআলাই সকল রহমত করুণার অধিপতি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন : مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ ‘ আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকে রাখার কেউ নেই। আর তিনি যা আটকে রাখেন, তারপর তা ছাড়াবার কেউ নেই। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সূরা আল ফাতির : )

ইমাম শানকীতি রহ. বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আয়াতে রহমত বলতে তার ব্যাপক বিশাল রহমত বুঝিয়েছেন, যা দুনিয়া আখিরাতকে অন্তর্ভুক্ত করে আর দুনিয়ার সকল সৃষ্টিকে শামিল করে আর অবারিত রহমতের একটি নিদর্শন হল বৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা বলেন : فَانْظُرْ إِلَى آَثَارِ رَحْمَةِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِها    অতএব তুমি আল্লাহর রহমতের চিহ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দাও। কিভাবে তিনি যমীনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন’ (সূরা আর রূম: ৫০)

এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা আল কুরআনের অসংখ্য স্থানে বৃষ্টিকে তাঁর রহমত বলে উল্লেখ করেছেন, যা মানুষ, পশু-পাখী, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সকলেরই সমানভাবে উপকার করে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমতের ব্যাপকতা সম্পর্কে বলেন: وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ ‘ আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। সুতরাং আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যাকাত প্রদান করে। আর যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে’ (সূরা আল আরাফ: ১৫৬) 

অতএব দুনিয়ার কোনো কিছুই আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে বঞ্চিত নয়। সব কিছু তাঁর রমহত-দয়া-করুণা-অনুগ্রহের সমুদ্রে ডুবে আছে।

কিন্তু আখিরাত বা পরকালে এমন হবে না। সেখানে শুধু আল্লাহভীরু-মুত্তাকীগণ রহমত লাভে সক্ষম হবে। কথাটাই তিনি উক্ত আয়াতে এভাবে বলেছেন: فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ সুতরাং আমি তা লিখে দেব তাদের জন্য যারা তাকওয়া অবলম্বন করে

উপস্থিত ঈমানদার ভাইয়েরা! আমরা পরম দয়াময় অতি দয়ালু আল্লাহর বান্দা। তিনি চান আমরা যেন একে অপরের প্রতি রহম করি। সকল সৃষ্টির প্রতি দয়া-মায়া-করুণা-অনুকম্পা প্রদর্শন করি।

ইমাম আহমাদ তাবারানী রহ. বর্ণিত বিশুদ্ধ সনদে নির্ভরযোগ্য সুত্রে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা মিম্বরে দাঁড়ানো অবস্থায় বলেন : اِرْحَمُوْا تُرْحَمُوْا وَاغْفِرُوا يُغْفَرُ لَكُمْ  তোমরা দয়া করো, দয়া পাবে। ক্ষমা করো, ক্ষমা পাবে’(আহমদ)

সকল মানুষের প্রতি, সকল প্রাণীর প্রতি দয়া মায়া রহম করার জন্য ইসলামের নবী  আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সৃষ্টির প্রতি রহম বা দয়া করলে স্রষ্টার দয়া-করুণা-রহম লাভ করা যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: الرَّاحِمُوْنَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ تَبَارَكَ وَتَعَالَىْ : اِرْحَمُوْا مَنْ فِيْ الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِيْ السَّمَاءِ রহমকারীদের প্রতি মহান দয়াময় আল্লাহ রহম দয়া