اَلْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالْهُدَى وَدِيْنِ الْحَقِّ، وَأَيَّدَهُ بِالْحِفْظِ وَالنُّصْرَةِ، وَأَعَزَّ أَصْحَابَهُ الطَّيِّبِيْنَ الطَّاهِرِيْنَ، وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى سَيِّدِ الْأَوَّلِيْنَ وَالْآخِرِيْنَ، إِمَامِ الْغُرِّ الْمُحَجَّلِيْنَ، سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الْأَمِيْنِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الْمَيَامِيْنِ. أَمَّا بَعْدُ:
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! শুরুতে আমি নিজকে ও আপনাদেরকে তাকওয়ার উপদেশ দিচ্ছি। কেননা তাকওয়াই হলো দুনিয়া আখিরাত উভয় জাহানের মুক্তি ও পরিত্রাণের পথ।
আল্লাহ তাআলা বলেন : وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا ‘ যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন’ ( সূরা আত-তালাক:২-৩)।
সুপ্রিয় ভাই ও বন্ধুগণ! আমাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না যে আল্লাহ তাআলার ইলম সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছে। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, নড়াচড়া, কথা ও কাজ সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। ইরশাদ হয়েছে : وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ ‘ আমার রব ইলম দ্বারা সব কিছু পরিব্যাপ্ত করে আছেন। অতঃপর তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না’? (সূরা আল-আনআম: ৮০)।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে : وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ ‘ তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা বড়, তবে (এর সব কিছুই) রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে’ (সূরা ইউনুস:৬১)।
উল্লিখিত দু’টি আয়াত এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতের ভাষ্য যদি আমরা প্রকৃত অর্থে অনুধাবন করতে সক্ষম হই, তাহলে আল্লাহ তাআলা সার্বক্ষণিকভাবে যে আমাদের প্রতিটি কাজ ও কথা পর্যবেক্ষণ করছেন, এ অনুভূতি আমাদের মধ্যে সজীব ও অম্লান হয়ে থাকবে।
প্রিয় মুসলিম ভাইয়েরা! জিহ্বা হচ্ছে আল্লাহর নিয়ামতসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা জিহ্বাকে বিভিন্ন বস্তুর স্বাদ গ্রহণ ও মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে দান করেছেন। ইরশাদ হয়েছে : أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ وَلِسَانًا وَشَفَتَيْنِ ‘আমি কি তার জন্য দু’টি চোখ বানাইনি? আর একটি জিহ্বা ও দু’টি ঠোঁট’? (সূরা আল-বালাদ:৮-৯)।
জিহ্বার ব্যবহার থেকেই বুঝে নেয়া যায় কোন ব্যক্তি কতটা বুদ্ধিমান অথবা নির্বোধ। সে কতটা সভ্য অথবা অসভ্য। এই জিহ্বার অযাচিত ব্যবহারের ফলেই অনেককে হতে হয় নিহত অথচ তাকে হয়তো জীবদ্দশায় ভয় পেত বীর বাহাদুররা পর্যন্ত। এই জিহ্বার কারণেই তো জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে অনেককে উপুর করে ।
আল্লাহ তাআলা সদাসর্বদা দেখছেন, পর্যবেক্ষণ করছেন এ অনুভূতি যে মুমিনের হৃদয়ে জাগ্রত রয়েছে সে কখনো তার জিহ্বাকে যথেচ্ছা ব্যবহার করতে পারে না। কেননা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই জিহ্বাকে সর্বাবস্থায় হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর যা কিছু জিহ্বা হিফাযতের বিপরীতÑ তা থেকে তিনি বারণ করেছেন সুস্পষ্ট ভাষায়। ইরশাদ হয়েছে: وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ‘ এবং তোমরা একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশ্ত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাক। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু’ (সূরা আল হুজুরাত:১২)।
আবু বারযা আল আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: يَا مَعْشَرَ مَنْ آمَنَ بِلِسَانِهِ، وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيْمَانُ قَلْبَهُ: لَا تَغْتَابُوْا الْمُسْلِمِيْنَ وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ، فَإِنَّهُ مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَاتِهِمْ، تَتَبِّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ تَتَبَّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ، يَفْضَحْهُ فِىْ بَيْتِهِ. ‘ হে ঐ সকল লোক যারা শুধু মুখে ঈমান এনেছ অথচ ঈমান তাদের হৃদয়ে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানের গীবত করো না এবং তাদের দোষ খোঁজার পেছনে লেগো না। কেননা যে তাদের দোষ খোঁজায় লিপ্ত হবে, আল্লাহও তার পেছনে দোষ খুঁজবেন। আর আল্লাহ যার পেছনে লাগেন তিনি তাকে তার বাড়িতেই লাঞ্ছিত করে ছাড়েন’(আবু দাউদ)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরনিন্দা থেকেও কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং বললেন: ‘নিশ্চয় এ দু’জনকে আযাব দেয়া হচ্ছে। তবে এদের বড় কোনো গোনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না; রবং এদের একজন প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করত না। আর অন্যজন মানুষের মাঝে পরনিন্দা করে বেড়াত’(বুখারী ও মুসলিম)।
মানুষকে অভিশাপ দেয়াও জিহ্বাজাত একটি বড় অপরাধ এবং এক হাদীস অনুযায়ী এটা নারীদের অধিক হারে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। ইরশাদ হয়েছে : يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ، فَقُلْنَ وَبِمَ ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ : تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ